Tuesday, February 3, 2015

ইউরেকা - রম্য রচনা

রবীন্দ্র সরোবরের সুলভের সামনে চানক্য বসে রয়েছেন সকালে নিজের টোল চালান এবং এই শীতের দুপুর বেলা মাছের ঝোল ভাত খেয়ে এইখানে আড্ডা মারেন খোঁড়া তৈমুর লঙের সাথে সরকারী হ্যান্ডিক্যাপ ভাতায় এই চাকরিটা পেয়েছে সে

চা : চন্দ্রগুপ্তকে এবার রাস্টিকেট করে দেব টোল থেকে - হারামজাদা বলে কিনা পুরু হল ওর আদর্শ - কত করে বললাম আলেকজান্ডারের সাথে দেখা কর - নন্দকে হারাতে গেলে ছাড়া গতি নাই - কে শোনে কার কথা


তৈ : আজকালকার ছেলেরা তো - ডেঁপোমির একশেষ


চা : হ্যাঁ যা বলেচ ভায়া - সেদিন দেখি অমর্ত্য ক্লাসে এয়েছে চে গুয়ে ভরার টি-শার্ট পড়ে - জিজ্ঞেস করলাম বাইসাইকেল ডায়েরি পড়েছ ? বলে কিনা সেটা কি ? আরে মোলো যা


তৈ : হুমম - দুদিন আগে ভারতচন্দ্রের মঙ্গলকাব্য পড়ছিলাম - আরে মঙ্গলকাব্য লিখেছিস সেখানে মঙ্গলরা ছাড়া আর সবই আছে - একটু বেসিক না জেনে কেন যে এসব করতে যাস
এমন সময় হঠাত একটি ছেলে ' ইউরেকা ইউরেকা ' বলতে বলতে কোনো পোশাক ছাড়াই সুলভের দরজা খুলে দৌড় লাগল
তৈমুর চানক্য হতচকিত এবং আজকের ছেলে পিলেদের উপর আরও খানিক গালাগালি প্রদর্শন

এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে এক জোড়া জামা প্যান্ট হাতে আর্য্যভট্টের প্রবেশ - উনিও টোল চালান - তবে অন্য সাবজেক্টের - তাই চানক্যের সাথে আলাপ আছে

আর্য্য : তোমরা আর্কিমিদিস ছোঁড়াটাকে দেখেছ ? এখানে এসেছে নাকি ?

তৈ : কেন কি হয়েছে ?

আর্য্য : কি আবার হবে - হাতের কাছে পেলে পিটিয়ে ছাল ছাড়াতাম - আমার স্টুডেন্ট হয়ে কি বেলেল্লাপনা ?

চা : যেমন পন্ডিত তেমনই ছাত্র

আর্য্য : (চানক্যের শ্লেষ গায়ে না মেখে) গেঁয়ো ভূতটা বাথটাবে শুয়ে হঠাত দেখে টুপ করে জল পড়ে গেছে বাইরে অমনি কি একটা আবিষ্কার করে ফেলেছে মনে করে সারা শহর ন্যাংটো হয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে

চা : এহ - শুধু আঁক কষিয়ে কষিয়ে বেচারার জীবনবিজ্ঞানটার বারোটা বাজিয়েছ দেখছি

তৈ : মানে - কি - আমার বাথটাবে ? এহ ম্যাগো - ব্লিচিং দিয়ে ধুতে হবে

আর্য্য : যাই মালটাকে পেলে এই জামা কাপড় পড়িয়ে গ্রীসের ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দেব - এসব নোংরামি আমি সইবনা - নেহাত প্লেটো রেকমেন্ড করেছিল - তাই ঢুকিয়েছিলাম নইলে ..


{ ওদিকে বিকেল পাঁচটার তোপ পড়ল - আমার বলাও শেষ হল }


No comments:

Post a Comment